Tuesday, February 3, 2015

মিজমিজিতে হেলিকপ্টারে আসলেন জামাই

হেলিকপ্টারে চড়েই ইতালী প্রবাসী বর মোহাম্মদ ফারুক হোসেন নামলেন কনের বাড়িতে। এরপর বিয়ে করে কনেকে নিয়ে গেলেন নিজ বাড়িতে।

বুধবার বিকেলে বর ফারুক হোসেন হেলিকপ্টার নিয়ে নামেন সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি বাতানপাড়ার এক মাঠে। অদূরেই কনের বাড়ি। আকাশ থেকে বর নামতে দেখে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

পরে বিদায় নেয়ার সময় বর উৎসুক জনতার কাছে দোয়া চাইলেন। বিদায়ের সময় জনতা হাত নেড়ে বর-কনেকে শুভেচ্ছা জানায়।

কনে মাকছুদা আক্তার শিখা সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। আর বর ফারুক হোসেন একই জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের দাড়িকান্দি এলাকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মৃত আব্দুল মান্নান মেম্বারের ছেলে।

ইতালী প্রবাসী বর ফারুক জানান, ছোট বয়স থেকেই তার স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টার চড়ে বিয়ে করার। সেই স্বপ্ন তার আজ পূরণ হয়েছে। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় শ্রষ্ঠার কাছে কৃতজ্ঞতাও জানান।

বিকেল ৩টার দিকে আড়াই লাখ টাকায় ভাড়া করা সাউথ এশিয়ান এয়ারওয়েজের (এস টু-এ ই এফ) একটি হেলিকপ্টারে চড়ে বর ফারুক হোসেন বাতানপাড়ার কনের পিত্রালয়ে আসেন। হেলিকপ্টারটি নামে কনের বাড়ির অদূরে মাঠের মধ্যে। হঠাৎ আকাশ থেকে হেলিকপ্টার নামতে দেখে তাজ্জব বনে যান এলাকাবাসী। গ্রামে নেমেছে হেলিকপ্টার- এখবরে ছুটে আসেন শিশু, নর-নারীসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন। এক কান দু’কান করে হেলিকপ্টার আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামে। উৎসুক জনতার ভিড়ও বাড়তে থাকে। তাদের অনেকেই হেলিকপ্টারের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়।

বর ফারুক হোসেন ৩ ভাই ৪ বোনের মধ্যে বড়। পারিবারিকভাবেই ফারুক হোসেনের সঙ্গে মাকছুদা আক্তার শিখার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

কনের ভাই ইয়ার হোসেন মাসুম জানায়, দেড় বছর আগে তার বোনের সঙ্গে ফারুকের ৫ লাখ টাকার দেনমোহরে কাবিন হয়। বুধবার কনে ঘরে তুলতেই হেলিকপ্টার নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে ছুটে আসেন বর ফারুক। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫ টায় আবারও হেলিকপ্টারে চড়ে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

হেলিকপ্টার দেখতে আসা ব্যাবসায়ী আহসান জানায়, এ এলাকায় হেলিকপ্টারে করে বর আসার ঘটনা এটিই প্রথম। ছোটবেলায় পালকিতে করে বর বিয়ে করতে আসতেন। এখন দেখছি হেলিকপ্টারে করে বর আসতে। ভালই লাগছে।