Sunday, September 13, 2015

গতবারের খেলা এবার আর হবে না

শামীম ওসমান


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন না আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তবে ওই নির্বাচনে তিনি অন্য একজনকে প্রার্থী দেবেন। ওই প্রার্থী পাস করলেও কাজ করবেন তিনিই। তিনি বলেছেন, ‘মেয়র যেই হবে মেয়রের জায়গায় মেয়র থাকবে। ওই মেয়রের পক্ষে সব কাজ আমি শামীম ওসমান করব। এ কথা আপনাদের দিতে চাই।’ বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গতবারের খেলা কিন্তু এবার হবে না।’

 

রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি চত্বরে দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যানারে সচেতন জনগণ নামের শামীম ওসমান সমর্থিতদের আয়োজনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

 

শামীম ওসমান বলেন, ‘(সিটি নির্বাচনে) আমরা অবশ্যই একজন ভালো, সৎ প্রার্থী দিব। যাকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে আমরা ফুলের মতো সাজাব।’ বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, যদি এক বাবার মেয়ে হয়ে থাকে তবে আগামীতে সে নির্বাচন করে। আমি দেখতে চাই। আমরাও একটা প্রার্থী দিব। নির্বাচন করলে আপনার বাক্সে কয়টা ভোট পড়ে। গতবারের খেলা কিন্তু এবার হবে না। রাতের বেলায় প্রতিবাক্সে এক হাজার ভোট। ১০১ সেন্টারে এক লাখ এক হাজার ভোট চলে যাবে। ওই খেলা এবার হবে না। যেহেতু হবে না আর নির্বাচন যেহেতু আমি করমু না, করামু। তাই বুইঝা শুইনাই নাইমেন। আশা করি জামানত নিয়া বাসায় যাইতে পারবেন না। সৎ সাহস থাকলে হঠাৎ কইরা সুফিয়ান, টুফিয়ানরে নিয়া নিউজিল্যান্ড কানাডায় চইলা যাইয়েন না। থাইকা যাইয়েন। বইলা যাইয়েন গেলে।’

 

শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে একটা বাচ্চা ছেলে মারা গেল। তার নাম ত্বকী। নাটক শুরু হয়ে গেল। কী করেছে? শামীম ওসমান মেরেছে। আর কী করেছে? আমার ছাত্রলীগের সেক্রেটারি সুজন মেরেছে। আমার ছেলেও নাকি সাথে মেরেছে। আমরা সাতজন মিলে নাকি মেরেছি। কেমনে মেরেছি? নিজ হাতে নাকি মেরেছি। মানে আমি পায়ে ধরছি, আমার ছেলে মাথায় ধরছে। এতগুলো মানুষ মিলে ওরে মাইরা ফালাইছে। সক্রিয়ভাবে যদি মারতে হয় তাহলে তো আমার উপস্থিত থাকা দরকার।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইভি রাস্তায় নেমে বলা শুরু করে দিল এই ওসমান পরিবার। সাথে কিছু ছাগলের বাচ্চা ছিল এগুলোও দেখি লাফালাফি শুরু করল। আমি বললাম আরেকটু লাফায়া নে, টায়ার্ড হ- এরপরে কথা কই। আমি সাংবাদিকদের ডাকলাম, নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজকে ডাকলাম। যদি হত্যা করতে হতো তাহলে তো আমার থাকতে হয়। আমি পাসপোর্ট দেখিয়ে বললাম আমি তখন দুবাই ছিলাম। আমার ছেলেও আমার সঙ্গে ছিল। ওদের মুখে কুলুপ আইটে গেল। তিনি বলেন, ‘এরপর বলল শামীম না নাসিম ওসমানের ছেলে মাইরা ফালাইছে। দুই মাস আগে আমি মারলাম, দুই মাস পর আমার ভাতিজা মারলো।’

 

একই প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের র‍্যাব যখন তারা ছিল এরা তখন ইন্টু পিন্টু খুব বেশি করত এবং রাতের বেলায় মিটিং করত। এক জায়গায় আবার খানাপিনা হতো। কিছু বৈঠক হতো। ওই বৈঠক ছিল কীভাবে আওয়ামী লীগকে শেষ করা যায়। ওই র‍্যাবের ভাইয়েরা আজকে কোথায় আছে আপনারা জানেন। ওই দুর্নীতিবাজ র‍্যাবরা যারা আমার নজরুলকে হত্যা করেছে; এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে- সেই র‍্যাবের কর্মকর্তা আজকে জেলখানার ভেতরে অবস্থান করছেন।’

 

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘সেলিনা হায়াৎ আইভী বিগত দিনে কোনো উন্নয়নের কাজ করেনি। অপরিকল্পিত ভাবে যেখানে সেখানে দোকান-পাট, মার্কেট ও পার্ক নির্মাণ করে দুর্নীতি করেছে। মেয়রের দুর্নীতির বিষয়ে আমি সংসদে কথা বলেছি। দুর্নীতি কমিশন যদি আইভীর বিচার না করে, তবে জনগণের আদালতে তার বিচার হবে।’

 

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘শেষ সময়ে এসে আইভী এখন কাজ দেখানোর চেষ্টা করছে। নিজের লোকদের টেন্ডারে কাজ দিচ্ছে। মেয়রের কোটার দোকান-পাট স্বজনদের মাঝে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৬ জনই আজ আমার সাথে এই মঞ্চে এসেছে। আইভীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছে।’

 

নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ইসরাত জাহান স্মৃতি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল প্রমুখ।

Wednesday, September 9, 2015

আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না : মেয়র আইভী



উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি আরো বলেন, আমার নামে যতই অপপ্রচার করা হোক না কেন, আপনারা কারো কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। আমি উন্নয়ন করতে এসেছি। উন্নয়ন করবোই। যত বাধাই আসুক না কেন, আমি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।

 

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ২নং ওয়ার্ড মিজমিজি চৌধুরীপাড়া এলাকায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, শুধু ২নং ওয়ার্ড এলাকায় উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 
পর্যায়ক্রমে সকল রাস্তাঘাট উন্নয়ন করা হবে। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সাত খুনে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটি, কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাজী শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আজগর হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী জীবন কৃঞ্চ সরকার, সুমন দেবনাথ প্রমূখ।

Monday, September 7, 2015

জনতার আদালতে আইভীর বিচার হবে: শামীম ওসমান

shamim-osman

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষ আজকে এখানে বিনা ঘোষনায় এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে। এখানে কাউকে দাওয়াত করে নিয়ে আসা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের মানুষ যখনই কোন অন্যায় দেখেছে, তখনই রাজপথে নেমে এসেছে। কাউন্সিলররা এখানে উপস্থিত হয়ে জনগণের ভোটের মর্যাদা রেখেছেন। তারা এখানে তাদের দু:খের কথা বলেছেন। বিগত ৪ বছরে তারা সিটি কর্পোরেশনে শান্তিমত কাজ করতে পারেনি। বাংলাদেশে একটি সংস্থা আছে আইএমপি। তাদের কাজই হলো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দুর্নীতির তদারকি করা। দেশের প্রতিটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে, পঞ্চবট্টি পার্কে যে কাজ হয়েছে, একশ টাকার মধ্যে সেখানে বাইশ টাকারও কাজ হয়নাই। যে সুফিয়ান এক সময় টিবয়ছিল, সে নাকী এখন কোটিপতি বনে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুর্নীতির প্রতিবাদে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার বিকেল ৪টায় শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে ট্রাকের উপড় নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে দুর্নীতি কারো কাম্য নয় শ্লোগানে সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান।
তিনি আরো বলেন, মাধবী প্লাজাতে সংরক্ষিত কোটা থেকে সুফিয়ানকে দোকান বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে, যেটা নারায়ণগঞ্জের সকল স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে কী হয়েছে সেটা আইভীও জানে, আমিও জানি। তৈমুর নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ালে ওনি জয়ী হতে পারতেন না। দলের স্বার্থে মুখ বন্ধ রেখেছি। ভবিষ্যতেও মুখ খুলবনা।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য আমার বড় ভাই মরহুম নাসিম ওসমান অনেক পরিশ্রম করে গেছেন। ওনি জীবিত অবস্থায় এ সমস্যা নিরসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য যে, চোরে না শুনে ধর্মের কথা। এরপর আমার আরেক ভাই সেলিম ওসমান গ্যাসের সমস্যা সমাধান করেছেন। এখন নারায়ণগঞ্জে আর কোন গ্যাসের সমস্যা নাই। নাসিম ওসমান জীবিত অবস্থায় শীতলক্ষ্যা ব্রিজ যেন না হয়, সেজন্য আইভী বার বার বাধার সৃষ্টি করেছে।
শামীম ওসমান আরো বলেন, আমাকে ঘায়েল করার জন্য কিছু কুশীলরা আইভীর সাথে গোপণে আলোচনা করেছে। ত্বকী হত্যা নিয়ে আইভীর সাথে নারায়ণগঞ্জের কিছু সুশীল নামধারী ওসমান পরিবারকে ঘায়েল করতে প্রথমে আমার নাম জড়িয়েছিল। এরপর তারা আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের ছেলে আজমীর ওসমানের নাম জড়িয়েছে। তাদের উদ্যেশ্য ছিল সম্মান হানী করে তারা ওসমান পরিবারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিলুপ্ত করবে। কিন্তু ত্বকী হত্যার রহস্য এখন উন্মাচন হচ্ছে। যেখানে ত্বকীর লাশ পাওয়া গেছে, সেখানকার কিছু লোক স্বাক্ষী দিয়েছে যে খুনের আগে দিন সেখানে ওর সাথে একটি মেয়ে ছিল।
তিনি আরো বলেন, ওসমান পরিবার এমন একটি রাজনৈতিক পরিবার, যারা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নাই। নারায়ণগঞ্জের পতিতা পল্লি উচ্ছেদ করেছিলাম বলে আমাকে বোমা হামলায় মারার চেষ্টা চালোনো হয়েছিল। টেন্ডার ছাড়াই সিটি কর্পোরেশনের ৭২০টি দোকান বিক্রি করা হয়েছে। অথচ তিনি বলেছেন আমি এটা করি নাই। আমার মত শামীম ওসমান যে সংসদে রয়েছে, সেখানে আপনি মিথ্যা কথা বলে পার পেয়ে যাবেন, এটা ভাবলেন কী করে। আমি বাঘের মত গর্জন করে সংসদে যাই। যেদিন থেকে তদন্ত কমিটি মেয়রের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে দুদকে পাঠিয়েছে, তারপর থেকেই আইভী নানা ভাবে টাকা ছিটানো শুরু করেছে। গরীব মানুষগুলো যখন কোন উৎসবে ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসে, তখন চাঁদা না পেয়ে তাদের সকালে উঠায়, আর বিকেলে বসায়।
প্রশাসনের উদ্দ্যেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ফুটপাতের দোকানদাররা চোর না। তারা খেটে খায়। তাদের পেটে লাথি মারবেন না। প্রয়োজনে জায়গা ঠিক করে এদের দোকান বরাদ্ধ করে দিন। যদি কেউ এদের পেটে লাথি মারে, তাহলে আমি শামীম ওসমান একজন সাংসদ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে তা সহ্য করবনা। সিটি কর্পোরেশনের কোন আইনে আছে ট্রানস্পোর্ট কোম্পানী সিটি কর্পোরেশনকে টাকা দিবে।
আইভীর চাচাতো ভাই অবৈধ রিক্সা আটক করে বাণিজ্য করছে। আগামীতে যেই মেয়র নির্বাচিত হোকনা কেন, আমি শামীম ওসমান তার পক্ষে কাজ করব।
আইভী ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সে যে দুর্নীতি করেছে, দুদক না পারলেও জনতার আদালতে তার বিচার হবে।
উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, সাবেক সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লা বাদল, সাথারণ সম্পাদক শওকত আলী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড: শিরিণ শারমিন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ সহ-সভাপতি জিএম ফারুক, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ এথলেটিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ইব্রাহীম চেঙ্গীস, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, মহানগর যুবলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু, জিএম আরাফাত, বিশিষ্ট ক্যাবল ব্যাবসায়ী করিম বাবু, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পষিদের সভাপতি ওবায়দুল আজিজ, স্বাধীনতা চিকিতসক পরিষদের সভাপতি ডা: দেবাশিস সাহা, নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল রুমি, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্জ আব্দুর রশিদ, বিএমএ‘র সভাপতি ডা: শাহনেওয়াজ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার যুবলীগ সভাপতি মতিউর রহমান মতি, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর মহিলা লীগের সভানেত্রী ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদ, নিতাইগঞ্জের শ্রমিক নেতা সানি প্রমুখ।

Friday, September 4, 2015

মেয়র আইভীকে ছাত্রলীগ নেতাদের আলটিমেটাম !


SELINA HAYAT EIVI


০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫,বুধবার


নারায়ণগঞ্জে সচেতন ছাত্রসমাজের সমাবেশ


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তাকে মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন ছাত্রসমাজের ব্যানারে করা সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয় যেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দ্রুত অব্যাহতি না নিলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ শহরে গতকাল মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেয় সচেতন ছাত্রসমাজ।
সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাফায়াত আলম সানি বলেন, অধিকার আদায়ের জন্য দুর্যোগ মোকাবেলা করে ছাত্রসমাজ রাজপথে দাঁড়িয়েছে। মেয়র আইভীর শ্বেতপত্র প্রকাশের পর বোঝা গেল মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জবাসীকে কলঙ্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দুর্নীতির অনেক অভিযোগের মধ্যে পঞ্চবটিতে পার্ক নির্মাণে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ ছাড়াও পার্কের সাত একর জমির মধ্যে দশমিক ৮০ একর জমি ব্যক্তিগত লোভে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। যার মূল্য ৫০ কোটি টাকা। সিটি করপোরেশনে চাকরি করে অরুন বিশ্বাসসহ আরো একজন তাদের স্ত্রীর নামে ৫০টি দোকান অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে রাজউকের জমি দখল করে বিশাল ভবন তৈরি করা হয়েছে যেখানে নাসিকের কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত লোকদের দেয়া হয়েছে।
সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান নান্নু বলেন, মেয়র আইভীর দুর্নীতির কারণে আমরা নারায়ণগঞ্জের ছাত্রসমাজ লজ্জা পাই। আমরা ছাত্রসমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং ছাত্রসমাজের পাশে দাঁড়িয়েছি।
জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিনহাজুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, মেয়র আইভী বিএনপি-জামায়াতের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাই তিনি দুর্নীতি করতে পারেন। পার্কে দুর্নীতি, রাস্তাঘাট নির্মাণে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি করেছেন। এসব দুর্নীতি নারায়ণগঞ্জবাসী মেনে নেবে না। আইভীকে মেয়র পদে দেখতে চাই না। তাকে অব্যাহতি নিতে হবে। নতুবা নগর ভবন ঘেরাও করা হবে।